
ছবি অনাহুত আগন্তুকের সৌজন্যে
অনাহুত আগন্তুক শহুরে এবং গ্রামীণ জীবনযাত্রার মধ্যে পার্থক্যটুকু চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে এবং বলছে যে এইসব গ্রামের মানুষ শহরে এলে তাদের শুদ্ধতাটুকু ছুঁড়ে ফেলে আর সবার মত হতে চেষ্টা করে:
তুমি যদি কখনো ঠিক এরকম একটা অজপাড়াগাঁয়ে যাও, রাজধানীতে অনেকগুলো বছর থাকার পর, তুমি প্রথম যেটা নোটিশ করবে, সেটা হলো জীবণযাত্রার ভিন্নতা। ওদের আর আমাদের পৃথিবী কতটা আলাদা সেটা ভাবতেই তোমার গায়ের লোম খাড়া হয়ে যাবে। আমার সিলটি টানটা খুব ভালো লাগছিল শুনতে – আর আমার ভাবতেই খুব বাজে লাগছিল, যখন এই মানুষগুলো শহরে যায়, ওর ওদের সুন্দর কথা বলার টানটা ছুড়ে ফেলে কৃত্তিম সুরে ‘শুদ্ধ বাংলা’ বলতে। আমার মনে হয় আমরা এভাবেই আমাদের সব শুদ্ধতাগুলো ছুড়ে ফেলে দেই – আর সবার মতো হতে চেষ্টা করে। যে ছেলেটা আমাদেরকে পা দিয়ে বৈঠা বেয়ে নদী পার করে দিয়েছিল, সে হয়তো সারা জীবণে আমার এক দশমাংশ সুযোগও পাবে না, হয়তো আমি খুব বড় বড় কাজ করবো আর বুক ফুলিয়ে ভাববো ‘কি করে ফেললাম!’। এবং কখনো ভাববো না, বাংলাদেশ আসলে ঠিক অল্প কয়টা সুযোগ পাওয়া মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না – বাংলাদেশ ঠিক শহুরে কয়েকটা দেয়ালের মধ্যে আটকা পড়া একটা জায়গা না। বাংলাদেশটা অনেক বড় একটা দেশ। অনেক অনেক মানুষ নিয়ে – যারা কখনো খুব একটা সুযোগ পায় না, জীবণে কিছু একটা করার বা কিছু একটা হওয়ার – কিন্তু ওর সুযোগ পাওয়া নিয়ে মাথাও ঘামায় না। আমাদের প্রধানমন্ত্রীরা দামি দামি শাড়ি পড়ে বিদেশে যায় দেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরতে, আমাদের নেতারা পল্টন ময়দানে মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে গলা ফাটায় আমজনতার কান ফাটানোর জন্য, ভার্সিটিতে দূরদূরান্ত থেকে ছেলেপুলে পড়তে আসে, এসে সিট না পেয়ে রাজনীতি করে শুধু মাথার উপর একটা ছাদ পাওয়ার জন্য – তারপর ওরাও একটা সময় গিয়ে শূণ্য কথার প্রাসাদ গড়বার জন্য বক্তৃতা দিতে শুরু করে। আমাদের কবিরা এত বেশি কঠিন কঠিন শব্দ দিয়ে কবিতা লেখে, যে আমরা ভুলতেই বসি, কবিতার উদ্দেশ্য কি।
VN:F [1.6.8_931]
Rating: 7.7/10 (3 votes cast)
VN:F [1.6.8_931]